মতামত

আপনে বাঁচলে বাপের নাম

প্রতীকী ছবি

-বিপ্লব রেজা

আমাদের এই সময়টাই যেন খারাপ! চারিদিকে শুধু অসাধু ও ভন্ড ব্যক্তিদের বিচরণ! সমাজের পরতে পরতে- দৃশ্যে কী অদৃশ্যের সমগ্র সত্ত্বায় অবাধ দুর্নীতি! প্রশাসন থেকে তৃণমূল সব জায়গায় মিথ্যে ও অসত্যের নিয়ন্ত্রণহীন বিচরণ! আমরা- ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষেরা কেবল শুধু নিজেদের বাঁচার ও ভালো থাকার চেষ্টায় মগ্ন। এতে সমাজের, রাষ্ট্রের বা অন্যের কী হলো তাতে আমাদের কারোই কোন যায় আসে না। আমরা ব্যক্তি আদর্শ বা ধর্মীয় দর্শনে মুখোশী ও বকধার্মিক হলেও একটা কথা অন্তর থেকে খুব বিশ্বাস করি তা হলো, ‘আপনে বাঁচলে বাপের নাম’।

কিন্তু এ নীতিতে বিশ্বাস করে প্রত্যক্ষ্য ও পরোক্ষভাবে আপনার, আমার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে যে মহাক্ষতির দিকে আমরা এগিয়ে চলছি, তার থেকে আমরা কেউ কি নিস্তার পাবো? আমাদের মাথার উপরের আকাশটি যদি একবার ভেঙে পড়ে, সেখানে কে বাঁচতে পারবে? একইভাবে, যে সমাজ-রাষ্ট্রকে আমরা দিনদিন একটু একটু করে কুলষিত করে চলছি, তার থেকে আমরা নিস্তার পাবার আশা করি কিভাবে! তবে এ বসুন্ধরায় আমাদের বেঁচে থাকার স্বার্থে, ভালো থাকার প্রয়োজনে কিংবা আগামী গ্রজন্মকে একটি নিষ্পাপ পৃথিবী উপহার দেবার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে নাগরিকরা তাদের কাজ করবে, জীবনযাপন করবে- এটা প্রত্যাশা বৈকি।

আজ আমাদের সমাজে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও খুন-র্ধষণ, চুরি-ডাকাতি ও দুর্নীতির মত নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজ। এসব কাজ কিন’ কোন দেও-দানব বা আগুনের তৈরি জ্বিন-পরী করছে না, করছে মানুষই। শুধু স্বার্থের মোহে পড়ে- একটু লাভের আশায়, একটু বেশি মুনাফা বা সুবিধা নেয়ার জন্য তারা এ কাজগুলো অবলিলায় করছে। কিন’ ভাবলে অবাক হতে হয়, মানব জাতি ধ্বংসের জন্য মানুষই দায়ী। আমরা নিয়মিত, বলা চলে রুটিন করেই পরিবেশ দূষণ করছি, প্রতিদিন আপনার আমার হাত ধরে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, পরিবেশ কী তা পাল্টা প্রতিশোধ নিবে না? অবশ্যই নিচ্ছে ও আগামীতে আরও নিবে।

প্রাসঙ্গিকভাবে বলা যায়, দেশে বর্তমানে এডিস মশার মহামারী আকারে যে প্রাদুর্ভাব, সেটিতো আমাদেরই কারণে সৃষ্ট, নয় কী? এখন প্রায় প্রতিদিনই এ মশার কামড়ে শ’ শ’ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমরা কেবল ঘটনা ঘটলে নজরে আনি, তার আগে কোন খেয়াল রাখি না। কিছু দায় রাষ্ট্রের রয়েছে বটে, তবে নাগরিকরাও এগুলো এড়াতে পারেন না। একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হলে শুধু সরকার নয়, সকলেইর একযোগে যার যার অবস’ান থেকে কাজ করতে হয়। কিন’ এর ব্যাপক অনুপসি’তি আমাদের সমাজে।

দেশের প্রায় ১৩ টি প্রতিষ্ঠানের দুধে ভেজাল, কয়েকটি কোম্পানির মসলায় ও ওষুধে ভেজাল, ওয়াসার পানিতে ভেজাল, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকতাদের অর্থ কেলেঙ্কারি, দুদক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, মসজিদ ও মাদ্রসা শিক্ষকের নেতৃত্বে খুন-গুম-ধর্ষন, কিশোর অপরাধীদের প্রাবল্যতা সব মিলিয়ে কেমন যেন অস্থির অবস্থা চলছে। আসলে এগুলো আর কিছু না, সামাজিক অবক্ষয়ের ফল।

একটা সমাজ যখন নষ্ট হয়ে যায় বা ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে থাকে তখন এ ধরনের কর্মকান্ড লক্ষনীয়। রাষ্ট্র ব্যর্থ হওয়ার জন্যও এই অবক্ষয়ই দায়ী। আর এর কারণে দেখা যায়, স্বামী স্ত্রীকে, না হয় স্ত্রী স্বামীকে খুন করছে। একইভাবে বাবা ছেলেকে, ছেলে বাবাকে এবং ভাই ভাইকে খুন করছে। বাবা তার মেয়েকে অথবা ভাই তার বোনকে ধর্ষন করছে! এটি মরাত্মক ব্যাভিচার। এর থেকে রক্ষের একটি ও একমাত্র উপায় হলো অবক্ষয়ের জায়গাগুলোতে এটি প্রতিহত করা অর্থাৎ পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে আদর্শ ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করতে হবে। নিজে ভালো হতে হবে এবং অন্যকে ভালো রাখতে হবে। এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, সমাজ-আদর্শ যখন কোনঠাসা হয়ে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যায়, অবিচার মাথা চারা দিয়ে ওঠে। তাই একজন মানুষ হিসেবে, আমরা আর অন্যায়, অপরাধ ও দুর্নীতি করবো না- আজ কী আমরা এ শপথটা করতে পারি?

লেখক: গবেষক ও সাংবাদিক

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১