মতামত

গুরু হে, দিও মোরে ঠাঁই তব পাশে

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ৭৮তম প্রয়াণ দিবসে

আজ ২২ শ্রাবণ। গুরু চলে যাচ্ছেন তার প্রিয় ধরনী থেকে। ভক্ত কূলের চোখ ছল ছল করে ভিজে যাচ্ছে গুরু বিহনে। বুঝি আকাশ থমকে গেছে, বুঝি বাতাসে মিশে গেছে এতোক্ষণে গুরুর শেষ নিঃশ্বাস। শ্রাবণ মাসেই তোমার চলে যেতে হবে কেনো? প্রকৃতিকে কি অনেক কাঁদাতে চেয়েছিলে খুউব নাকি” কাঁদালে তুমি মোরে ভালোবাসারই ঘায়ে…”।
তোমার পাশে বসে যেনো তোমারই সুরে বলে উঠি,” আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে” এক দিগন্ত জুড়ে ভরা নীল আমার কবি। রবি ঠাকুর, যারে আমি বিযুক্ত করতে পারি না জীবনের কোনো অনুসঙ্গ থেকে। আমার সারা শরীর জুড়ে যেমনি আচ্ছাদিত করে রাখে আমার প্রিয় রঙের জামদানী তেমনি সে আমার শরীর জুড়ে মন জুড়ে থাকে দিবা নিশি। বাঙলা ভাষার প্রথম ও একমাত্র সাহিত্যিক কবি রবীন্দ্রনাথ নোবেল জয় করে বিশ্বকে দেখালেন বাঙলা কবিতার গীতাঞ্জলি।
আজ ২২ শ্রাবণ। কবি চলে যায় বিশ্ব চরাচরের মায়া ছেড়ে অন্য মায়ালোকে। মানুষের জীবনের পুংক্ষানুপুংক্ষ বিশ্লেষণে কবির রচনা ছড়িয়ে আছে। কোথায় পাই না তারে? সে তো মিশে আছে মিশে থাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষণে। কি দুঃখ, কি সুখে, কি জীবন কি মৃত্যুতে, কি পুজা কি পার্বনে, কি দেশ কি প্রকৃতির সাথে। কি প্রেম কি বিরহে। তবু মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে, যদি পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে। বুঝি চক্ষু জলে ভেসে যাই আমি, আমার পরাণ পড়ে থাকে শ্রাবণ ধারার জ্বলে। থাকিতে দেখিনি তারে তাই মরিতে সাধ জাগে বিদায় বিরহে।” সে ছিলো আমার স্বপনচারিণী/ তারে বুঝিতে পারিনি/ দিন চলে গেছে খুঁজিতে খুঁজিতে। হে বিশ্বকবি, হে প্রেমের কবি, হে দুঃখ জাগানিয়ার কবি, হে আনন্দ ধারার কবি, হে মোর মহা কালের কবি, তোমার বিদায় যেনো আকাশ কাঁদে, কাঁদে বাতাস, কাঁদে প্রকৃতি। আর কাঁদি নিরজনে তোমারে বুকে ধারণ করে এই আমি তোমারে ভালোবেসে ভালোবেসে।
গুরু হে, দিও মোরে ঠাঁই তব পাশে…

-শারমিনা আহমেদ

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

ডিসেম্বর ২০১৯
সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১