আজকের দেশ

১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে খুলনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

হ্যালোডেস্ক

খুলনায় ১১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে ‘১৯ তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২০’। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত মেলা চলবে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন পর্যন্ত। এবারের মেলায় বাংলাদেশ ভারত ও ইরানের ১৫০ টির অধিক স্টলে থাকছে। মেলারা মাঠ প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এবারের আয়োজন মেলার ১৯তম আসর। দীর্ঘদিন ধরে খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করে আসছে। পূর্বের বছরগুলোতে খুলনা সার্কিট হাউজের মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হলেও এবার নগরীর সোনাডাঙ্গায় খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে মেলার আসর জমবে। আগামী বুধবার (১১ মার্চ) খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল মেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক। এসময়ে উপস্থিত থাকবেন, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দীন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবীর, জেলা পরিষদের চেয়্যারম্যান হারুনুর রশীদ, খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হেলাল হোসেন, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহসহ খুলনার গন্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলাটি দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এবছর প্রবেশের টিকিট মূল্য রাখা হয়েছে ১৫ টাকা। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রবেশে টিকিট কাটা প্রয়োজন হবে না। বিগত বছর গুলোতে প্রতিদিন গড়ে দশ হাজার লোকের সমাগম হতো আন্তর্জাতিক এ মেলায়। এবার আরো বেশি লোকের সমাগম হবে বলে আশা করছে আয়োজকরা।

মেলার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে আছেন মেসার্স চামেলী ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্তাধীকারী মোহাম্মদ রাসেল মিয়া বলেন, মেলায় এবার বিভিন্ন শ্রেণির ১৫০ টির অধিক স্টল থাকবে। যার মধ্যে ৪ টি ভারতীয়, ২ টি ইরানী এবং বাকিগুলো বাংলাদেশী। করোনা ভাইরাসের কারনে এবার চাইনারা মেলায় অংশগ্রহন করতে পারছে না। আর ভিসা জটিলতায় পাকিস্তানীরা খুলনায় আসছেন না। এবারের মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য বিশেষ উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠের একাংশে গড়ে তোলা হচ্ছে শিশু জোন। সেখানে তাদের জন্য দেশী-বিদেশী ১৮ টি রাইড রাখা হচ্ছে। এছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সুবিধার জন্য বিকাশ, চিকিৎসকসহ প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, শৌচাগার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, পুরুষ এবং নারীদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, অজুখানা ও ফ্রী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা থাকছে। মেলার সৌন্দর্য্য বর্ধন করা জন্য দুইটি ঝর্ণা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ড্যান্সি ঝর্ণা ও অপরটি রাউন্ড ঝর্ণা। এবার প্রথম দুইটি সেলফি টাওয়ারও রাখা হচ্ছে। যেখানে দাড়িয়ে সকলে ছবি তুলতে পারবে। মেলায় দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিপ পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, স্যানিটারি পণ্য, স্টেশনারি, ক্রোকারিজ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, টয়লেট্রিজ পণ্য ইত্যাদি বিক্রি করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘মেলার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ২৪ টি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য রাখা হয়েছে একটি কন্ট্রোলরুম। ইতোঃমধ্য খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) পক্ষ থেকে মেলার মাঠ পরিদর্শন করা হয়েছে’। মেলার যাবতীয় নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত পরিমানে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কেএমপি।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘মেলার যাবতীয় নিরাপত্তায় কেএমপির পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে। সেখানে সব সময় আমদের একটি টিম নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়াও যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করবে।‘

মেলায় অংশগ্রহকারী ভাই ভাই গিফট কর্ণানের স্বত্তাধীকারী আলামিন বলেন, ‘খুলনার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন করে। দেশি ও বিদেশি পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন, বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রেও এ মেলা গুরুত্ব রয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্পপণ্য ও ভোগ্যপণ্য উত্পাদনকারীরা একদিকে তাদের উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মান, ডিজাইন, প্যাকেজিং ইত্যাদি প্রদর্শন ও বিপণন করতে পারে, অন্যদিকে পারস্পরিক সংযোগ স্থাপনসহ বাণিজ্য প্রসারের সুযোগ লাভ রয়েছে। এছাড়াও এখানে প্রচুর ক্রেতাদের সমাগম হওয়া বেশি পরিমানে পন্য বিক্র করা যায়। তাই প্রতি বছর আমরা এ মেলায় অংশ গ্রহন করি।‘

আরেকটি স্টলের মালিক বলেন, ‘আমাদের পণ্যের প্রসার ও প্রতিষ্ঠানগুকে ব্র্যান্ডিং করতে আমরা প্রতি বছর মেলায় অংশগ্রহন করি। এখানে প্রতিদিন অগনিত ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সমাগম হয়। এতে সহজে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়।‘

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, খুলনায় তেমন কোনো বিনোদনের জায়গা নেই। তাই এখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। দেশী-বিদেশী ব্যবসায়ীরা এ মেলা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের পণ্য সামগ্রী প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয়সহ ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের এক বিরাট সুযোগ পান। যা খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখে। তাই প্রতি বছর আমাদের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হয়।

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

December 2020
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031