গল্প

কিছু উপলব্ধি, কিছু জিজ্ঞাসা, কিছু সন্তুষ্টি!!

সাময়িকী: শুক্র ও শনিবার

প্রথম ভাগঃ

পৃথিবীর শ্রষ্ঠা কে? নিয়ন্ত্রণ করেন কে? সব সৃষ্টি করেন কে?? ধ্বংস করেন কে? ফকির কে বাদশাহ আর আমীর কে ফকির করেন কে? মহান আল্লাহ তা’আলা। দুনিয়ায় কোন মাখলুকাত, প্রানী, মানুষ তার শত্রু?? কাউকে কম, কাউকে বেশী ভালোবাসেন? না-
তাহলে, কেউ বড়, কেউ ছোট কেন?? যে জীবের মাথায় ঐ মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন এটা বোঝার জ্ঞান, ঘিলু, বা সামর্থ্য দিয়েছেন, সেই ব্যাক্তিটি দেখো, কি সুন্দর সব মেনে নিয়ে নিরবে, নিভৃতে শত অভাবের মাঝেও হাসিমুখে তার কাজ করে চলেছে।
আর আমরা যারা মহা পন্ডিত, সব চাই, একার চাই, নিজের টা চাই, তারা সারাটা জীবনভর নাই, নাই করতে করতে নরক যন্ত্রণা নিয়ে পৃথিবীতে কাটিয়ে যাচ্ছি!! মূর্খের মতো, গর্দভের মতো। আরবের জাফওয়ান প্রদেশের ছোট্ট একটা গ্রাম আজওয়া’র হৃদয় স্পর্শী একটা ঘটনা বলি-
আরব দেশের জাফওয়ান প্রদেশের ছোট্ট একটা গ্রাম আজওয়া’য় একদা মুহাম্মদ আফসার ইবনে জুবায়ের আল আজমান নামের এক গরীব মুমীন মেষপালক বসবাস করতো।
লোকটির স্ত্রী মারা গেছিলো আগেই, একটি মাত্র শিশু সন্তান আয়েশা আফসার আজমান কে নিয়ে সে খুবই অভাব অনটনে বসবাস করতো। আর অভাবের কথা চিন্তা করে অন্য কোন সন্তান তারা নেননি।
একদিন তার কন্যাটি ভীষণ অসুস্থ হলো। প্রচন্ড অসুস্থ কন্যা সন্তানটির শিয়রে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল, তখন ৭ দিন যাবৎ অভূক্ত অসুস্থ (শুধু পানি আর গাছের নিচে পড়ে থাকা কুড়িয়ে আনা খেজুর খেয়ে কাটিয়েছিল) সেই শিশুটি তার বাবার কাছে বারবার একটু দুম্বা বা ভেড়ার গোস্ত খেতে চাচ্ছিল, বাবা কাল এনে দিব, বলে বলে মেয়েকে স্বান্তনা দিয়ে আসছিল শুধু, কিন্তু কোথা থেকে আনবে সে তার মেয়ের জন্য এতটুকু দুম্বার গোস্ত!! লোকটি একবারের জন্য ও তার এই অক্ষমতার জন্য খোদাকে দোষারোপ করেননি, এমনকি তার নিকট সাহায্য প্রার্থনাও করেননি, পাছে খোদার প্রতি বিশ্বাসের যদি কোনভাবে অমর্যাদা বা ক্ষুন্ন হয়!!! এখানে উল্লেখ্য দরিদ্র সেই বাবা মুহম্মদ আফসার ইবনে জোবায়ের আল আজমান একজন মেষপালক ই ছিলেন, তার পালে অসংখ্য মেষ, দুম্বা, এবং ভেড়া ছিলো। কিন্তু সেগুলো ছিলো তার মনিবের।
সে ছিলো কেবল রাখাল। যার বিনিময়ে সে দু বেলা দু মুঠো খাবার সংস্থানের মজুরী/ পারিশ্রমিক পেত। প্রচন্ড অসুস্থ সেই শিশু টি চিকিৎসা, পথ্য, এমনকি নূন্যতম একটু খাবারের অভাবে দূর্বলতর হয়ে অবশেষে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেল না ফেরার দেশে। দুম্বার গোস্ত দিয়ে রুটি খাওয়ার অতৃপ্ত বাসনা অপূর্ণ রেখে। গরীব বাবা তাতে এতটুকু দূঃখ না করে মেয়ের শেষ গোসল, জানাজা সহ দাফনের সকল কার্য সম্পন্ন করে যখন কবরে শায়িত করবেন তখন, তার মনে হলো- মেয়ে যেন তাকে একবার বলে উঠলো, “বাবা আমাকে গোস্ত-রুটি খেতে দিবে না?? বাবা কিছুক্ষণ নিরব থাকলেন, তারপর কবরের তলায় মেয়েকে শুইয়ে দিয়ে মাটি দিয়ে, দাফন সম্পন্ন করলেন। পরে পাশে বসে রইলেন কিছুক্ষণ চুপ করে, নিজের অজান্তে চোখ দিয়ে অঝোরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে কবরের উপরে-তখন আকস্মিকভাবে কেঁদে উঠলেন বাবাটি-কবরের উপর আছড়ে পড়ে-বিলাপ করলেন। কিছুক্ষণ!!!
এমন সময় আসমান থেকে গায়েবী আওয়াজ আসল- আয়শা জান্নাতুল ফেরদৌসের সবচাইতে সেরা স্থানে পৌঁছে গেছে- তার জন্য দূঃখ করোনা আফসার!! মেষ পালক পিতা, আয়েশার দরিদ্র বাবা মুহম্মদ আফসার ইবনে জোবায়ের আল আজমান সম্বিৎ ফিরে পেয়ে- নিজের এই আবেগের জন্য লজ্জিত হয়ে সংগে সংগে আল্লাহর প্রতি ক্ষমা ভিক্ষার উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করলেন, আর মোনাজাত করে কাঁদতে লাগলেন ক্ষমা পাওয়ার আশায়- তখন সে হঠাৎ অপার্থিব মোহনীয় একটা আবেশ অনুভব করলেন এবং শুন্যেগমনের অনুভূতি উপলব্ধি করলেন।
তারপর আফছার দেখলেন জান্নাতুল ফেরদৌসের প্রধান ফটকের সামনে তার প্রিয়তম কন্যা রাজসিক পোষাক আর সাঁজে সজ্জিত হয়ে তাকে অর্ভ্যথনা জানাতে এক অলৌকিক, অপার্থিব, এবং অস্বাভাবিক আয়োজনে দু হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে আছে।
আফসার সব বুঝতে পারলেন, কন্যাকে জড়িয়ে ধরে মুহুর্তে পৌঁছে গেলেন জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মহিমান্বিত স্থানে।কন্যার সুপারিশে এবং আবেদনে পৃথিবীতে এক দরিদ্র অথচ ন্যায়পরায়ন, নিঃস্ব অথচ সন্তুষ্ট, অভাবি কিন্তু সৎ আফছারের নছিবে আল্লাহ তা’আলার করুনায় কন্যা আয়েশার সাথে “জান্নাতুল ফেরদৌস” কবুল করেছেন। আমীন। আমরা মুসলমান, সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব। সেটাই মুমীনের কতব্য। তাতেই রব্বুল আলামীন বেশী খুশি হোন। কেননা, আমরা তো জানিই; একমাত্র তিনিই পারেন, এক বিন্দু শিশির কনা কে মহা সাগরে পরিনত করতে। সুবহানাল্লাহ!!
হে মুমীন, ধৈর্য হারা হয়োনা, বে’সবুর হয়োনা। এই দুনিয়া তো তোমার জন্য এক মায়া,পরীক্ষার স্থান!! তুমি তো আমার বান্দা!! আমি কাকে কি দেব, না দেব সে তো আমারই বিবেচনা, তুমি এ নিয়ে আফসোস করোনা।
তিনিই তো সবচাইতে ভালো জানেন, তোমার জন্য কোনটা সর্বোত্তাম- সুবহানাল্লাহ (তিরমীজী)

দ্বিতীয় ভাগঃ
বারাক ওবামা যখন প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অবসর নেন তখন তার বয়স ৫৫ বছর। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন তখন তার বয়স ৬৯ বছর।
ঢাকায় যখন সকাল ৬টা বাজে,লন্ডনে তখন রাত ১২ টা। সময়ের হিসেবে লন্ডন,ঢাকার থেকে ছয় ঘণ্টা পিছিয়ে, এতে কিন্তু প্রমাণ হয় না যে, লন্ডন ঢাকার থেকে স্লো!
পৃথিবীর সবকিছু আপন গতিতে এবং নিজ সময় অনুযায়ী চলে। কেউ গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২২ বছর বয়সে, কিন্তু চাকরি পেতে আরো ৫ বছর লেগে যায়। আবার কেউ ২৭ বছরে গ্রাজুয়েশন শেষ করে পরের দিনই চাকরি পেয়ে যান!
অনেকে ২৫ বছর বয়সে কোম্পানির সিইও হয়ে, মারা যান ৫০ বছর বয়সে। আবার অনেকে ৫০ বছর বয়সে সিইও হয়ে, মারা যান ৯০ বছরে। কেউ ৩৩ বয়সে এখনও সিঙ্গেল, আবার কেউ ২২ বছর বয়সে বিয়ে করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন!
মনে হতেই পারে, পরিচিতদের মধ্যে আপনার থেকে, কেউ অনেক এগিয়ে আছেন, আবার কেউ আছেন অনেক পিছিয়ে। কিন্তু আপনার ধারনা ভুল, প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ সময়, অবস্থান এবং গতিতে আছেন। আগে থাকাদের হিংসা না করে, পিছিয়ে থাকাদের অবহেলা না করে, সব সময় শান্ত থাকুন। আপনি এগিয়েও নেই, পিছিয়েও নেই! আপনার পথ আপনার, অন্যের পথ অন্যের। শুধু সময়কে গুরুত্ব দিয়ে পরিশ্রম করে যান।

লেখক- শফিকুল বারী শিপন শাহরিয়ার

Add Comment

Click here to post a comment

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

June 2024
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930