ইতিহাস-ঐতিহ্য

কী ছিল গোপাল ভাঁড়ের পদবি? তাঁর বাবার নাম কী? গোপালের কি কোনও সন্তানাদি হয়েছিল?

হ্যালোডেস্ক

গোপাল ভাঁড়। যে নামটা শুনলেই হাসতে হাসতে বাঙালির পেটে আজও খিল ধরে। চটি বইপত্রে যার কাহিনি পড়তে গিয়ে উদ্ভট কীর্তিকলাপ আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি বাঙালিকে মনে করিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চোরাগোপ্তা অন্তর্ঘাতের বিবিধ অনুষঙ্গ। সেই গোপাল ভাঁড় বলে কি সত্যিই কেউ ছিলেন?

কিংবা, আসলে কী ছিল গোপালের পদবি? গোপালের বাবার নামই বা কী? গোপালের কি কোনও সন্তানাদি হয়েছিল? নাকি সবই জনশ্রুতি, লোকমুখে জন্ম নেওয়া কাহিনি? এই নিয়ে বাঙালির মনে অনেক দিনের প্রশ্ন। ঐতিহাসিকরাও এর কোনও নিশ্চিত সদুত্তর দিতে পারেননি।

তবে, নানা অনুমান অবশ্যই আছে। নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় বিদূষক হিসেবে গোপালের উপস্থিতি বাস্তবিকই ছিল বলে একাংশের ধারণা। অনেকে বলেন, গোপাল নামে কেউ-ই ছিলেন না, কিন্তু কৃষ্ণচন্দ্রের সভায় ছিলেন অতি সুচতুর একাধিক ব্যক্তি। তাঁদের সম্মিলিত রূপই জনমানসে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে গোপাল ভাঁড় হিসেবে।
শোনা গেছে একবার নাকি রাজ দরবারে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি? গদগদ হয়ে গোপাল বললেন, আজ্ঞে না রাজামশাই। তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন! দরবারের সবাই শুনে তো ‘হা… হা… হা’…।

কিন্তু দীর্ঘদিনের এই বিতর্কের মাঝে সরাসরি কেউ যদি বলেন— ‘গোপাল ভাঁড় তো ছিলেন বটেই, এবং আমিই তাঁর বংশধর!’ কতকটা এমন দাবিই করেছিলেন নগেন্দ্রনাথ দাস। ‘নবদ্বীপ-কাহিনী বা মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র ও গোপাল ভাঁড়’ নামে একটি বইও লিখে ফেলেন তিনি।

এ বইয়ে তিনি জানাচ্ছেন, ‘ভাঁড়’ নয়, গোপালের পদবি ছিল ‘নাই’। তাঁর ঠাকুর্দা ছিলেন ‘আনন্দরাম নাই নামে এক পরম তান্ত্রিক সাধক।’ আর গোপালের বাবা দুলালচন্দ্র নাই, পেশায় ছিলেন নাপিত। তবে, গোপালের বুদ্ধিতে মুগ্ধ হয়েই নদিয়ারাজ তাঁকে সভার অন্যতম রত্ন হিসেবে স্থান দেন। তখন গোপালের উপাধি হয় ‘ভাণ্ডারী’। ‘ভাণ্ডারী’ থেকে অপভ্রংশেই ‘ভাঁড়’! গোপাল ভাঁড়!

নগেন্দ্রনাথ দাসের দাবি, কোনও পুত্রসন্তান না থাকলেও গোপাল ভাঁড়ের একটি মেয়ে ছিল। তাঁর নাম ‘রাধারাণী’। গোপাল ভাঁড়ের বংশ লতিকাও তিনি এই বইয়ে রেখেছেন।

নগেন্দ্রনাথের বক্তব্য, তিনি গোপালের দাদা কল্যাণের উত্তরসূরি। সেই অর্থে গোপালের একমাত্র বংশধর। তবে এই মত যে সব ঐতিহাসিক সন্দেহাতীত ভাবে মেনে নিচ্ছেন, তা বলা যায় না।

আমাদের সাথে সংযুক্ত থাকতে লাইক বাটনে ক্লিক করুন

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

February 2024
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
26272829