ঋতুর সাজ

গরমে ছেলেদের ফ্যাশন কেমন হওয়া উচিত

হ্যালোডেস্ক।।  চৈত্রের কাঠফাটা রোদে পোশাক নিয়ে ভাবছে ছেলেরা। ভোর সন্ধ্যা ব্যস্ততায় একই পোশাকে কাটে সারা দিন। তাই পোশাক নিয়ে সচেতনতা আবশ্যক। আরামদায়ক ফেব্রিক, সুন্দর নকশা আর সঠিক মাপের পোশাক গরমের অন্যতম চাহিদা।

শীতকাল শেষ হওয়ার পরও কিছুদিন মোটামুটি ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে পেরেছে রাতুল। কিন্তু এখন সূর্যের ঝাঁঝালো রোদে ঠিক কী ধরনের পোশাক পরবে তা নিয়ে বেশ চিন্তায় সে। সকাল থেকে সন্ধ্যা, বাসার বাইরে সময় কাটে তার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপের পারদের ঊর্ধ্বগতি অনুভূত হয়। গাঢ় রঙ পরবে, নাকি হালকা রঙ- এ নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই তার। সঙ্গে আছে তার ঘামের সমস্যা। তাই কোন ফেব্রিকে এ সময় পাওয়া যাবে স্বস্তি, তা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে তার। রাতুলের মতো এমন চিন্তা এ যুগের তরুণ প্রাণেরা হরহামেশাই করছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন ফ্যাশন শব্দটি ছেলেদের জন্যও প্রযোজ্য বেশ কয়েক যুগ থেকেই। তারাও এখন আবহাওয়া ও অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাক পরছে। তারাও এখন ট্রেন্ড সচেতন। গরমের সময় বলে ফ্যাশন করা যে মানা তা নয়; কিন্তু এর সঙ্গে সবার আগে আমাদের মাথায় রাখতে হবে আরাম আর স্বস্তির কথা। এখন ছেলেরা যে কোনো পোশাক গায়ে জড়িয়ে বাসা থেকে আর বেরিয়ে যায় না। বরং বেশ পরিকল্পনা করে তবেই পোশাক বেছে নেয়।

সাধারণত গাঢ় রঙকে ছেলেরা একটু প্রাধান্য দিলেও আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এটি এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ গাঢ় রঙ তাপকে আরও বেশি করে শুষে নেয়। এর ফলে তাপ বেশি অনুভূত হয় শরীরে। হাল্ক্কা রঙকে মাথায় রেখেই পোশাক নির্বাচন করা উত্তম হবে। বেশির ভাগ ছেলের ক্যাজুয়াল পোশাকের মধ্যে টি-শার্ট বেশ প্রিয় হয়। তবে শার্ট বা হাফ-শার্টও সমানভাবে পরা হয়। গতবারের একটি জনপ্রিয় ধারা ছিল ডিপডাই। এক শার্ট দুই ভাগে রঙ করা। এবার তার বদলে চল এসেছে হাল্ক্কা রঙের শার্ট। পুরনো চেক আবার ফিরে এসেছে নতুন আঙ্গিকে। হাল্ক্কা রঙের ওপর চেকের ছোঁয়া ছেলেদের মাঝে প্রিয় হয়ে উঠছে। এমন ধরনের ডিজাইন হলে শার্ট ইন করে পরলে ফরমাল লুক হয়ে যায়। আবার ইন না করে পরলে খুব সহজেই ক্যাজুয়াল লুক পাওয়া যায়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দু’ভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে এ ধরনের পোশাক। বিভিন্ন ব্যবহার একই পোশাকের মাধ্যমে সম্ভব হলে পোশাকটি ব্যবহারে একঘেয়েমি অনুভূত হয় না।

পাঞ্জাবি সাধারণত বিশেষ কোনো দিবস বা উৎসব থাকলেই পরা হয়। কিন্তু এখন সুতি কাপড়ের পাঞ্জাবিও ছেলেরা অনেকটা ক্যাজুয়ালভাবে পরছে। ফতুয়াও বেশ সমাদৃত। ঢিলেঢালা হওয়ার কারণে শরীরে খুব সহজেই বাতাস প্রবেশ করে। এর সঙ্গে পরতে পারেন জিন্সের প্যান্ট বা এক রঙের ট্রাউজার। পাঞ্জাবি পরে খুব সহজেই দাওয়াত, আড্ডা কিংবা কাছে-পিঠে ঘুরতে চলে যাওয়া যায়। তবে পাঞ্জাবি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে নজর দিন ফেব্রিকে। আরামদায়ক ফেব্রিক বেছে নিন। হালকা বুননের ফেব্রিকের মধ্য দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে বলে সেভাবে গরম অনুভূত হয় না। ঘামও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে না। এ সময় তাই আরামদায়ক ফেব্রিক হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।

ছেলেদের গরমের ফ্যাশন নিয়ে প্যাশন ডিজাইনাররা বলেন, গরমের কথা মাথায় রেখে কটন ম্যাটেরিয়ালকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরাল প্রিন্টের বেশ চল শুরু হয়েছে। এই সময়ে ছেলেদের শার্ট বা গেঞ্জিতে এই প্রিন্টই প্রাধান্য পাবে।

টি-শার্টে কলার থাকতেও পারে আবার কলার ছাড়া টি-শার্টও পরা যেতে পারে। যেহেতু গরম আর সঙ্গে প্রচুর রোদ ধুলাবালিও থাকবে, তাই কলারসহ টি-শার্ট পরলে ত্বক ভালো থাকবে। তবে টাইট কোনো শার্ট বা গেঞ্জি না পরাই উত্তম।

চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ফরমাল ব্যাপার থাকে বিধায় শার্ট পরতে হয়। স্বস্তির জন্য পরতে পারেন হাফ স্লিভ বা ফুল স্লিভের শার্ট। সুতি কিংবা চেক প্রিন্টের কাপড়েও মানাবে দারুণ। এ ছাড়া রয়েছে কুলডাই। মূলত কটন ভয়েল, অরবিন্দ কাপড়ের ওপর করা হয়। গরমের জন্য এমন কাপড়ও দারুণ আরামদায়ক।

একরঙা টি-শার্টের পাশাপাশি এখন নানা ধরনের প্রিন্টেড নকশা দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মুভি ডায়ালগ বা জনপ্রিয় টিভি সিরিজের ক্যারেক্টারগুলোকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে টি-শার্টে। অনেক অনলাইন প্রতিষ্ঠান আবার কাস্টমাইজেশন অর্থাৎ নিজের মতো নকশা করার সুবিধাও রেখেছে। শার্টের রঙের ক্ষেত্রে পেশাটা কিছুটা হলেও প্রাধান্য পায়। ক্লাসে যাওয়ার সময় হাল্ক্কা রঙিন পোশাকে যেমন সজীবতা প্রকাশ পায় তেমনি আবার অফিসে বেশি রঙ-চঙ পোশাক একদমই বেমানান। সেখানে হাল্ক্কা নীল, ধূসর, গাঢ় ধূসর, অফহোয়াইট, বাদামি, সাদা এমন সব রঙ চলে। পোশাকের রঙ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে কবে কী অনুষ্ঠান বা দিবস আছে তা মাথায় রাখুন।

প্যান্টের ক্ষেত্রে জিন্সই সহজলভ্য ও আরামদায়ক। এর পাশাপাশি বেছে নিতে পারেন গ্যাবার্ডিনের প্যান্ট। তবে বর্তমানে জগার বা জিম প্যান্ট বেশ প্রিয় হয়ে উঠছে। একরঙা বা স্ট্রাইপড হয়ে থাকে। ঢিলেঢালা ও গেঞ্জি কাপড়ের দ্বারা বানানো হয় বলে জিন্সের চেয়ে বাতাস বেশি প্রবেশ করে আর ত্বকের জন্য আরামদায়ক হয়। চাকরিজীবীরা পরতে পারেন স্ল্যাকস ধরনের প্যান্ট। এটি যেমনি ফ্যাশনের তেমনি স্বস্তির।

যেহেতু বেশ গরম এবং রোদ থাকে তাই ত্বকের একটু যত্ন নিতে ভুলবেন না যেন। সঙ্গে রাখুন রুমাল আর রোদচশমা। রোদচশমা যেমন ফ্যাশনের কাজ করে তেমনি চোখকে রক্ষা করে সূর্যরশ্মি থেকে। জুতার ক্ষেত্রে স্যান্ডেলের চেয়ে শু টাইপ জুতাকে প্রাধান্য দিন, এতে পা ভালো থাকবে। শু ধরনের জুতা বা স্নিকার পরলে অনেক সময় দুর্গন্ধের ভয় থাকে, তাই জুতা পরার সময় অবশ্যই মোজা পরে নেবেন। মাঝে মাঝে জুতা রোদে দিলে এ সমস্যা এড়ানো যাবে। সবকিছুর শেষে বাইরে যাওয়ার আগে একটু সুগন্ধি মেখে যেতে ভুলবেন না যেন!

Add Comment

Click here to post a comment

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

June 2024
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930