বিয়ের সাজ

বিয়ের আগে গায়ে হলুদের সাজ – পোশাক গহনা ও হলুদের সরঞ্জাম

হলুদ সাজে পালকি চড়ে

হ্যালোডেস্ক:  বিয়েতো বছর বছর হয় না। আর নিজেকে এই সাজে দেখতে সবারই একটু থাকে ভিন্ন আয়োজন। আবহমান কাল থেকে বিয়ের আগে গায়ে হলুদের পর্ব পালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে যেমন জাঁকজমকপূর্ণভাবে গায়ে হলুদ পালিত হয়, আগে সেভাবে পালিত না হলেও বিয়ের আগে অন্যতম অনুষ্ঠান হিসেবে গায়ে হলুদের ঐতিহ্য সহস্র বছরের পুরোনো। প্রায় ৪ হাজার বছর আগে থেকে মসলার পাশাপাশি প্রসাধনী হিসেবে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। দুইটি মানুষের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয় বিয়ের মাধ্যমে। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় স্মরণীয় করে রাখতে সবাই চায়। আর বিয়ের অনুষ্ঠানের সূচনাই হচ্ছে গায়ে হলুদের মধ্য দিয়ে। সেই গায়ে হলুদের সাজ নিয়ে সবারই থাকে বাড়তি আয়োজন।

শিশির জাহাঙ্গীরের ফটোগ্রাফিতে হলুদ সাজের ছবি।

গায়ে হলুদের সাজ এর পোশাক
একটা সময় ছিল যখন বিয়ের গোসলের আগে কনেকে সারা গায়ে চন্দন ও হলুদ মাখিয়ে ভালো মতো গোসল করিয়ে দেয়া হত। যেনো বিয়ের পোশাকে কনের গায়ের রঙ অনেক উজ্জ্বল ও সুন্দর দেখায়। কালক্রমে এই আনুষ্ঠানিকতার আলাদা একটা নাম ও রূপ নিয়েছে। এখন অনেক ঘটা করে গায়ে হলুদ করা হয়। বরাবরই আমাদের দেশে কনের হলুদ শাড়ি হিসেবে দেয়া হত হলুদ শাড়ি লাল পাড়। তবে দিনে দিনে এরও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

আবহমান কাল থেকে গায়ে হলুদের পর্ব পালিত হয়ে আসছে

‘গায়ে হলুদ’ নামটির সঙ্গে মিল রেখে আবহমানকাল থেকে কনেরা হলুদ রঙের শাড়ি ব্যবহার করে আসছে। এক সময় গায়ে হলুদের জন্য নির্ধারিত ছিল কেবল হলুদ শাড়িই। বর্তমান সময়ে গায়ে হলুদের সাজ এ রকম ধারণার একটু পরিবর্তন হচ্ছে। এখন কেবল হলুদ নয়, বরং একরঙা লাল, কাঁচা মেহেদির রং, সবুজও চলতে পারে। আর শাড়ি সব সময় হলুদ হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি চাইলে ভিন্ন রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে পারেন। ফেব্রিক হতে পারে মসলিন, সিল্ক, কটন, জামদানি। শাড়িতে খুব জমকালো কাজ না থাকলেই ভালো। অতীতে এ প্রচলনটাই ছিল। তবে শুধু শাড়িই যে পরতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। আপনি যদি কমফোর্ট ফিল করেন তাহলে পরে নিতে পারেন লেহেঙ্গা অথবা লং কামিজ। আর সাথে মানানসই গহনা ও সাজ শুধু হলুদকে বেজ করে আপনি শাড়িতে নানা রঙের পাড় বসিয়ে দিতে পারেন।

মেহেদি
উৎসবে আনন্দ ও মেহেদি থাকবেনা সেতো হতেই পারেনা। হিন্দু, মুসলমান এমনকি বিভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতিতে মেহেদির লাগানোর প্রচলন যুগ যুগ ধরে। আজকাল মেহেদির আলাদা করে অনুষ্ঠান করা হয়। হাতে পায়ে নকশা করতে টিউব মেহেদি আজকাল বেশি জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য বলে এর চাহিদাও বেশি।
বিয়ের কনের ক্ষেত্রে হাতের কনুই পর্যন্ত জমকালো মেহেদি পরাটাই বর্তমানে প্রচলিত। বর্তমানে মেহেদির ডিজাইনের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় অ্যারাবিয়ান ডিজাইন। অ্যারাবিয়ান ডিজাইনের ক্ষেত্রে কালো মেহেদি এবং সাধারণ মেহেদি—দুটোই ব্যবহার করা হয়।

গায়ে হলুদের ঐতিহ্য সহস্র বছরের পুরোনো

গায়ে হলুদের সাজ এ সতর্কতা
কালো মেহেদিতে অনেকেরই অ্যালার্জির কারণে র্যােশ বেরোয়। বিয়ের সময়ে এ কারণে হাতে দুধরণের মেহেদী ব্যবহার না করাই ভালো। তবে ব্যবহার যদি করতেই হয়, তাহলে আগে একবার ট্রাই করে দেখতে পারেন কালো মেহেদিতে আপনার স্কিনে অ্যালার্জি বেরোচ্ছে কি না।

অনেক সময় স্কিনে কাঁচা হলুদ পেস্ট লাগালেও র্যা শ বেরোয় ও ত্বক চুলকায় সেক্ষেত্রে কাঁচা হলুদের সঙ্গে বাড়তি কিছু উপকরণ মিশিয়ে নিলেই এ সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় যেমন, মশুরের ডাল বাটা, বাদাম বাটা, উপটন যেকোনো উপকরণ বাটা হলুদের সাথে মিলিয়ে নিলে র্যাশশ থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে এবং এটি ত্বকের জন্যও ভালো হবে।

জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় স্মরণীয় করে রাখতে সবাই চায়

কোথায় পাবেন গায়ে হলুদের সাজ এর সরঞ্জাম
গায়ে হলুদ এবং বিয়ের অন্যান্য আয়োজনে বাহারী ডিজাইনের ডালা,কুলা ইত্যাদি খুবই প্রয়োজনীয়। এলিফ্যান্ট রোডে বিয়ের ডালা, কুলা, বাটি/প্রদীপ, রাঁখি ইত্যাদির দাম পড়বে ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। বিয়ের উপটান, সোন্দা, চন্দন, চন্দন তেল, সোহাগপুরী ইত্যাদির দাম পড়বে ৩৫০ থেকে ৯৫০ টাকার মধ্যে। কনের জন্য আলতা ৩০ থেকে ৬০ টাকা, মেহেদি ৪০ থেকে ১২০ টাকা, পাটি ১৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, হলুদ তোয়ালে ১২০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত।

বিয়ের অনুষঙ্গের মধ্যে আরও রয়েছে আফসান, রুমাল, পালকি ও ঝুড়ি।

Add Comment

Click here to post a comment

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

June 2024
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930