গল্প

রবীন্দ্রনাথ এবং বিতর্ক

সাময়িকী: শুক্র ও শনিবার

-তীর্থ বিশ্বাস

যে কোন সৃষ্টি কর্তা বেঁচে থাকেন যুগের প্রবাহের ধারার সাথে মিলেমিশে ।
ভালো অথবা মন্দলাগা দুটোই তাতে থাকে ।
রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে গায়কীদের ধারার সাথে পরিবর্তন মানুষ গ্রহণ করেছেন যদিও বলে রাখা ভালো যতটা গ্রহণীয় অর্থাৎ শ্রুতিমধুর এবং কথার সাথে অর্থ বা তাৎপর্যের সাথে গ্রহণীয় ঠিক ততটাই মানুষ নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন । ভবিষ্যতে কি হবে আগাম পূর্বাভাস বর্তমান যান্ত্রিক গতির অবয়বে বুঝিয়ে ফেলা বা দৃশ্যত আগাম পূর্বাভাস তুলে ধরা বোকামি ।
আমি কিছুদিন আগে বেশ কয়েক্ দশক আগের কিছু চেনা রবীন্দ্র সংগীত শুনছিলাম । কথা এক কিন্তু সুর একদম ভিন্ন অথচ রবীন্দ্র সংগীত ।
আবার ছোটবেলা থেকে যাদের গায়কী শুনে বড় হলাম তারা কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায় , সুচিত্রা মিত্র, সুবীর সেন, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, দেবব্রত বিশ্বাস, কিশোর কুমার, মান্না দে, পীযূষ কান্তি সরকার, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, নচিকেতা , শান্তনু রায়চৌধুরী, পল্লব কির্তনিয়া, ইন্দ্রানী সেন, শ্রাবণী সেন, সুমন চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য্য, লোপামুদ্রা মিত্র , জয়তি চক্রবর্তী , রূপঙ্কর বাগচী , থেকে শুরু করে অসংখ্য শিল্পী যারা নিজেদের কণ্ঠের জাদুতে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন ।

আঙ্গিক এবং ভাবনায় বদল হলেও আমি বারবার শুনেছি আবার রাবীন্দ্রিক নিজস্ব যে ধারা বলে চর্চিত মতামত এবং ঘরানা অনুরাগী শিল্পীরা আছেন তাঁদের / তাদের গায়কী সেটিও আমার ভালো লাগলে বারবার শুনি।
যে কোন সঙ্গীতের ক্ষেত্রেই নব যুগের চলনের সাথে কিছু কিছু পরিবর্তন আসে । তাকে আটকে রাখা কখনোই ইতিবাচক যেমন নয় তেমনি
নাচের ক্ষেত্রেও ঠিক এক কথাই আমি বলবো ।
যদিও আমি নৃত্য শিল্পী নই কিন্তু চক্ষু শিল্পী ।
সব থেকে বড় কথা আমি যে জেলায় জন্ম গ্রহণ করেছি সেই জেলার নাম পুরুলিয়া।
ছো নৃত্য প্রতিনিয়ত মাটির কাছে থেকেও যেমন দেখেছি আবার সহজ মানুষ এর অনুষ্ঠান মঞ্চে এই নৃত্য কে গানের সাথে তুলে ধরেছি ।
মানুষ খারাপ ভাবে নেননি ,
টুসু – তাকেও আঙ্গিক দিয়েছি তার চলন কে বজায় রেখে ,
মানুষের বর্তমান চলনের কাছে পৌঁছে দিয়ে তাদের ভাবনার জায়গা কে আরেকটু বেশি ভাবিয়ে তুলতে ।
পরীক্ষা থেমে থাকলে চলবে না ।
অবশ্যই তা সদর্থক হতে হবে।
যে কোন নাচের একটা ইতিহাস থাকে,
উৎসস্থল থাকে। যেমন সভ্যতার পরিবর্তনের সাথে সাথে মন্দির সৌধ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় , লক্ষণীয় বিষয় তার সাথে সাথেই জীবন জীবিকা সংস্কৃতিরও পরিবর্তন এবং আদান প্রদান ঘটে ।

এক প্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে পৌঁছে যায় সংস্কৃতি।
সেগুলো ক্রমশ ভাঙতে ভাঙতে নতুন ধারায় ফিরে আসে।
ভাষারও জন্ম হয়েছে ভাঙতে ভাঙতেই এবং সাহচর্যে এসে ।

ইদানিং নাচ নিয়ে খুব বিতর্ক হচ্ছে বিশেষত-
রবীন্দ্র নৃত্য কোনটা বা কোনটা নয় ।
আমি এই বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই ।

এক )
আর্ট এমন একটা ক্ষেত্র যে নিজে ভাঙতে না চাইলেও সময় তাকে দিয়ে তার মতো করে বেঁধে নেয়। পাশাপাশি আদি যে ধারা সেগুলিও বর্তমান থেকে যায় ও যাবে।

দুই )
আমি এটা ভাবছি না , আমি এটা ভাববো কেনো এগুলো যদি নিজস্ব স্বাধীনতার অঙ্গ হয় তাহলে যিনি বা যারা নিজেদের ভাবনায় নিজেকে সামনে আনছেন সেটাও তো স্বাধীনতা ।

তিন)
আজকাল এক শিল্পের শিল্পীদের প্রতি প্রশংসা কমে গেছে , নিজেরাও উপলব্ধি করে দেখবেন কথাটা ঠিক বললাম না ভুল , বরং আমি এই সুযোগে কমেন্ট বক্স এ বিতর্ক ঝড় তুলে নিজেকেও সামনে নিয়ে আসবো এই প্রবণতা আমার কিছু কমেন্ট বক্সেও লক্ষ্য করি ।
তারা প্রকাশ্যে যতটা সমালোচনা করেন প্রকাশ্যে এক শতাংশ ভালো কাজের ক্ষেত্রে কিন্তু একটা শব্দ ব্যয় করেন না ।

চার)
কোন নৃত্যে কে কি পোশাক পরবে সেটা অবশ্যই ভাবা উচিত তাবলে এই নয় যে নির্দিষ্ট পোশাক তিনি পরছেন না মানেই তাকে আক্রমণ করতে হবে । অনেক নাচের ক্ষেত্রে ছৌ বা সালসা এমনকি জিমন্যাস্টিক এর কিছু আর্ট কে পর্যন্ত বহু দেশের নাচের বা থিয়েটারের কৌশলে ব্যবহার করে আসছেন বছরের পর বছর ।

পাঁচ)
সঠিক জায়গায় রোদ্দুরটা লাগুক ।
আমার মনে হয় সেটার বেশি প্রয়োজন ।
যদিও স্বাধীন ভাবলে সবকিছুই স্বাধীন ।
রবীন্দ্রনাথের এটাই বড় প্রাপ্তি তিনি একজন দার্শনিক , বিজ্ঞান বোধ থাকা একজন ক্ষুরধার মস্তিষ্ক।
যুগের সাথে বিজ্ঞানের যেমন জন্ম হয় তেমনি রবীন্দ্রনাথেরও।
তিনি যুগে যুগে ফিরবেন , রোদ্দুর আসবে রোদ্দুর যাবে। চাঁদ গগনে যেমন থাকবে তেমনি চাঁদের হাসির বাঁধও ভাঙবে।
সবাই রবি কে ব্যবহার করে নিজেদের চর্চায় আলো দিতে থাকবেন । আমিও তাই।
তিনি তো বলেই গেছেন- ‘ হে ক্ষণিকের অতিথি … ‘

Add Comment

Click here to post a comment

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

June 2024
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930