অনু গল্প

রূপ তেরা মস্তানা, প্যায়ার মেরা দিবানা

সাময়িকী : শুক্র ও শনিবার

১৫ অক্টোবর ২০২১


– স্বপ্না নাথ

নতুন ক্লাসে যখন শাড়ি পরতে শুরু করলাম, স্কুলে যাওয়ার পথে প্রায়ই ছন্দার সঙ্গে দেখা হয়ে যেত। একসঙ্গে হেঁটে যেতাম অনেকটা রাস্তা। লাল বাহাদুর চৌমুহনি এগিয়ে গিয়ে একটা দোকানের সামনে কিছু ছেলে আড্ডা দিত, গোলগাল, নাদুসনুদুস চেহারার একটা ছেলে আমাদের দেখলেই শুরু করত– রূপ তেরা মস্তানা—–

ছন্দা বলত– তোর জন্যে গাইছে। আমি বলতাম– তুই কত সুন্দর দেখতে, তোর জন্যেই গাইছে। সত্যিই ছন্দা খুব সুন্দর ছিল। গায়ের রঙ, দৃষ্টির মহিমা আর থুতনিতে কালো তিল ছন্দার রূপের অভিব্যক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিল অনেক।

কাকে নিয়ে গান– এ নিয়ে আমাদের খুব তর্ক হত। একদিন ছন্দা বলল– তুই যেদিন একা আসবি, দেখিস তোকে দেখে গায় কিনা।

পরীক্ষা হল দুজনের, দেখলাম দুজনের জন্যেই গান। একদিন ছেলেটাকে একা পেয়ে সাহস করে ছন্দা এগিয়ে গিয়ে বলল — আর যদি এই গান শুনি, খুব খারাপ হবে বলে দিলাম। সাহস তো কম নয়! দুজনের সঙ্গে প্রেম করতে চান!

ছেলেটি বলল– না, না, দুজনের মধ্যে একজন হলেই হল। দুজনকেই ভালো লাগে।

ছন্দা মুখ বেঁকিয়ে ছেলেটাকে বদমাশ বলে চলে এল। আমাকে বলল– এমন একটা পাজি ছেলের সঙ্গে প্রেম করতে বয়ে গেছে আমার, কত ছেলে আমার পেছেনে। খুব গর্ব ছিল ছন্দার, প্রেমিকের লাইনের তালিকা খুব দীর্ঘ ছিল তার। আমি বললাম — আমারও বয়ে গেছে, ছেলেদের এরকম নরম-নরম চেহারা ভালো লাগে না আমার।

কিছুদিন পর আর রূপ তেরা মস্তানাকে দেখা গেল না। ছন্দা বলল– কোথায় জানি গেল ছেলেটা? বললাম– তুই যখন প্রেম করতে যাচ্ছিস না, তখন এত চিন্তার দরকার নেই।

ছন্দা যেন একটু আহত হল। ছন্দা আসলে চাইত তাকে ঘিরে লাইন লেগেই থাকুক, পরে বুঝেছি।

কিছুদিন পর জানা গেল– অষ্টম শ্রেণির পিয়ালি নামের একটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে রূপ তেরা মস্তানা। মেয়েটি নাবালিকা ছিল বলে রূপ তেরা মস্তানাকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

এরপর থেকে এই দোকানের সামনে এলেই শোনা যেত– প্যায়ার দিবানা হোতা হ্যায় মস্তানা হোতা হ্যায়—

ভয়ে আর তাকিয়ে দেখতাম না গায়ক কে!

Add Comment

Click here to post a comment

ফেসবুক পেজ

আর্কাইভ

ক্যালেন্ডার

July 2024
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031